Cinque Terre

Jamiatul Ulumil Islamia, Pabna



হতদরিদ্র কমেছে

Posted on July 31, 2017 by admin   |   Filed under templates, internet No Comments on হতদরিদ্র কমেছে

বাংলাদেশের অতি দারিদ্র্য পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা কমেছে। সাত বছরের ব্যবধানে প্রায় ৮০ লাখ হতদরিদ্র লোক অতি দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত অর্থবছর শেষে অতি দারিদ্র্য হার দেশের মোট জনসংখ্যার ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে এ হার ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ।

সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সোমবার ‘টেকিং অন ইন-ইকোয়ালটি’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর একটি অংশ রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের এ চিত্র উঠে এসেছে। এ উপলক্ষে গতকাল বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে ২ কোটি ৮০ লাখ হতদরিদ্র লোক ছিল। চলতি অর্থবছরে তা ২ কোটিতে নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা এখনো দুই কোটির মতো। তাঁরা প্রতি মাসে ১ হাজার ২৯৭ টাকাও আয় করতে পারেন না।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতদরিদ্র লোকের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের একটি হলো বাংলাদেশ। এ তালিকায় শীর্ষে থাকা ভারতে প্রায় ২৫ কোটি লোক অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে অতি দারিদ্র্য হার কমেছে। এই প্রবণতাকে ‘অর্জন’ হিসেবে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা ও সফল পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করেছে। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমার প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশের মানুষের আয় সক্ষমতা বেড়েছে। ২০০৫ সালের ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পিপিপি) অনুসারে এক ডলারের মূল্যমান ছিল ৫২ টাকা ৪ পয়সা। ২০১১ সালের নতুন হিসাবে তা ২৪ টাকা ৮০ পয়সা। ২০১৫ সাল থেকে পিপিপির এ নতুন হিসাব বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি যদি প্রতি মাসে ১ হাজার ২৯৭ টাকার বেশি আয় করেন, তবে তিনি হতদরিদ্র নন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নবান্ধব ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে দারিদ্র্য দিন দিন কমে আসছে। এ কথা এখন বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়নের ব্যাংকের (এডিবি) মতো সংস্থাও স্বীকার করছে। তিনি আরও বলেন, এ দেশের মানুষের প্রাণশক্তি অনেক বেশি; তারাই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে এনজিও, সুশীল সমাজের ভূমিকাও আছে।

দারিদ্র্য পরিস্থিতি তুলে ধরতে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, ওই বছর সরকারি হিসাবে অতি দারিদ্র্য হার ছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলনের প্রায় কাছাকাছি আছে। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলনটি সমীক্ষাভিত্তিক নয়; প্রাক্কলনভিত্তিক।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির কারণেই চরম দরিদ্রের সংখ্যা কমেছে। তবে এখনো প্রায় দুই কোটি লোক চরম দরিদ্র। সংখ্যার দিক থেকে এটি অনেক বেশি। এটি একটি বড় ধাক্কা। দারিদ্র্য সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে—এটা ভাবলে হবে না। তিনি মনে করেন, দারিদ্র্যের চেহারাও বদলেছে। নগর দারিদ্র্য বেড়েছে, যা নতুন চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বৈষম্য জোরালো হয়েছে।

এসডিজি অর্জনে চ্যালেঞ্জ: এ প্রবণতার দারিদ্র্য কমলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দারিদ্র্য বিমোচনের প্রথম লক্ষ্যটি অর্জিত হবে না বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এসডিজির লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে অতি দারিদ্র্য হার ৩ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় প্রবৃদ্ধি হিসাব করে দেখা গেছে, ওই সময়ে প্রতিবছরে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ দারিদ্র্য কমেছে। এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাসের এ ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালে এ দারিদ্র্য হার কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। একইভাবে ২০০৫ সালের পর থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক দশমিক ৯২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমেছে। আগের পাঁচ বছরের তুলনায় কম অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে এ দারিদ্র্য হার ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, যদি প্রতিবছর দারিদ্র্য হ্রাসের হার দশমিক ৯২ শতাংশ বজায় রেখে এসডিজি লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রতিবছর গড়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আর ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য হ্রাসের ধারা বজায় থাকলে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, নিচের দিকে থাকা দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ যদি প্রবৃদ্ধির সুফল পায়, তবে তা দারিদ্র্য বিমোচনে বেশি কার্যকর হয়। বাংলাদেশে এ জনগোষ্ঠীর মাথাপিছু ভোক্তা প্রবৃদ্ধি হার জাতীয় ভোক্তা প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে দশমিক ৪৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। বাংলাদেশ এদিক থেকে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানের চেয়ে এগিয়ে আছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে আছে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ হোসেন বলেন, একটি দেশের অর্থনীতি কীভাবে বাড়ছে, এর ওপর দারিদ্র্য হার কমার বিষয়টি নির্ভর করে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, গরিব মানুষ এর সুফল বেশি পায়; তবে দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।

Page 1 of 2 1 2 »

3 Responses

:

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *